সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোল্লাপাড়ায় প্রবাসীর বাড়ির ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের দেশে সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী দেখে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেন এমপি কামরুল শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন: নৌকায় কৈলাস ফিরলেন দেবী দুর্গা সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়, এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : এমপি নূরুল ইসলাম সাফেলা বড় বিল ও কুড়ি বিলে দখল বুঝিয়ে দিতে বাধা শুভ বিজয়া : অশুভের বিনাশ, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের জয় হোক বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব ৩০ অক্টোবর শুরু হচ্ছে হাজীপাড়া ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় আসর, ২৩ অক্টোবর প্লেয়ার নিলাম সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা করবে আর আনন্দটা সবার, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মসিউর রহমান সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদে শাস্তির দাবি তাহিরপুরে মানববন্ধন মধ্যনগরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইনামুল গণি তালুকদার রুবেল সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি সাংবাদিক আলিফ হত্যা ও মোত্তালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন দিরাইয়ে মাদকবিরোধী সভার পর প্রবাসী লিমনের ওপর হামলার অভিযোগ ‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী ‎সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই : আইনমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ১৬২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত ‎মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক
জগন্নাথপুর পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প

৭ বছরেও শেষ হয়নি ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ

  • আপলোড সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:৩৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
৭ বছরেও শেষ হয়নি ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ
বিশেষ প্রতিনিধি ::
জগন্নাথপুর পৌরসভার ৫০ কোটি টাকার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি। এতে লাখো মানুষ পড়েছেন ভোগান্তিতে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই লাখ মানুষের বিশুদ্ধ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের উদাসীনতা ও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে এখনো চালু হয়নি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পৌরসভার লক্ষাধিক মানুষ।
২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সারাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়নে নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। এর মধ্যে জগন্নাথপুর পৌরসভার জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল পৌরসভা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পে ছিল একটি গ্রাউন্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ওভারহেড ট্যাংক, ২৬ কিলোমিটার পাইপলাইন, ৯৫টি গভীর নলকূপ, ৮ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ১৫টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন, ৬টি পাবলিক টয়লেট, ৩৬টি ডাস্টবিন ও একটি পানি সরবরাহ অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা। কিন্তু বাস্তবে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এখন পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন হয়েছে। ১১ হাজার কেভিতে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের প্রস্তুতি শেষ হলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফোর-ফিফটি লাইনের জন্য আলাদা ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজও ঝুলে আছে। ফলে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি হলেও চালু করা যাচ্ছে না।
হবিবপুর ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামাল হোসেন বলেন, পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রচেষ্টায় এই ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপিত হয়। কাজও একসময় জোরেশোরো চলছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার হঠাৎ উধাও হয়ে গেলে সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৮-১০ মাস ধরে কার্যালয়ে তালা ঝুলছে, কর্মীরা চলে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে বন্ধ প্লান্ট, নিচে নামছে ভূগর্ভস্থ পানি স্তর। প্রকল্প এলাকার মূল সমস্যা এখন বিদ্যুৎ সংযোগ। এদিকে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছেন পৌরবাসী।

হবিবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সফিনা বেগম বলেন, আমাদের গ্রামে নলকূপে পানি আসে না। অনেক দূর থেকে কলসি নিয়ে পানি আনতে হয়। বিশেষ করে বাচ্চা আর বৃদ্ধরা কষ্ট পায় সবচেয়ে বেশি। দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পানির হাহাকার থেকে মুক্তি পেতো পৌরবাসী।

ইকরছড়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল আলম বলেন, বিশুদ্ধ পানি না পাওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কাজ বন্ধ আছে বহুদিন। আমরা চাই দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ চালু হোক।
শহরের ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম বলেন, জগন্নাথপুর পৌরসভায় এই মৌসুমে মাটির নিচ থেকে পানির স্তর সরে যাওয়ায় শত শত টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে মারাত্মকভাবে। পানি সরবরাহের প্রকল্পটি চালু হলেই এ সংকট কেটে যেত। প্রায় দুই বছর আগে প্রকল্পটি চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে নাগরিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, এই কাজটা দুটি প্যাকেজে হয়েছে। একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট অন্যটি পাইপলাইন। ওয়াটার ট্রিটমেন্টের কাজ শেষ পর্যায়ে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বাকি। আর পাইপলাইনের কাজ চলছে। আমরা আশাবাদী আগামী কয়েকমাসের মধ্যে পানি সাপ্লাই দেয়া সম্ভব হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক বরকত উল্লাহ বলেন, কাজ চলমান আছে। দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা তাগিদ দিয়েছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের

এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের